সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সাউদঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্থানীয় মাদক ব্যবসা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় থানা কৃষকদলের এক নেতাকে কুপিয়ে জখম এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি ওয়াবদা কলোনির বউ বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী মো. সাব্বির আহাম্মেদ (৩৩) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ওই এলাকার মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে। এ ঘটনায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে সাব্বির নিজ বাসার সামনে পৌঁছালে একদল চিহ্নিত দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকার মো. সাহেব আলী (৪০), মিরাজ (২০), রবিউল (৩৩), নুরু (২২), রিমন (১৯) ও হরিজ (২৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সাহেব আলী, মিরাজ, রবিউল ও নুরুর হাতে থাকা ধারালো চাপাতি, সুইচ গিয়ার ও ছেনার কোপে সাব্বিরের বাম পা, পিঠ ও ডান হাত মারাত্মকভাবে জখম হয়। বাকি আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাক্ষ ও জখম করেন। হামলা চলাকালীন সাব্বিরের পকেটে থাকা নগদ ৮০ হাজার টাকা সাহেব আলী ছিনিয়ে নেন এবং তার ব্যবহৃত প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের হিরো এক্সট্রিম মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করে সম্পূর্ণ ক্ষতিসাধন করা হয়।
পরবর্তীতে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করতে কিছুটা সময় লাগায় থানায় অভিযোগ দিতে সামান্য বিলম্ব হয়েছে বলে জানান ভুক্তভোগী।
সাব্বির আহাম্মেদ দাবি করেছেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তিনি ও এলাকার সচেতন যুবসমাজ তাদের এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় এবং প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মামলার প্রধান আসামি সাহেব আলীকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং খুব দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















