নিজস্ব প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সাবেক প্রধান শিক্ষিকা ও নারী উদ্যোক্তা শাহনাজ আক্তারের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর উদ্যোগে তাঁর দুই সহোদর ভাইয়ের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহযোগিতা কামনা করেছেন শাহনাজ।
শাহনাজ আক্তার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন আজিবপুর এলাকার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক, সিদ্ধিরগঞ্জ মহিলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি এবং রেবতী মোহন স্কুলের পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন।
শাহনাজের অভিযোগ, তাঁর দুই সহোদর ভাই মো. শামীম রহমান মিঠুন ও মামুনুল কবির মামুনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক বসতবাড়ি, ফ্ল্যাটের অংশ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও পানির মোটর ব্যবহারের বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছে। বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা আইনি ও সামাজিকভাবে সমঝোতার চেষ্টা হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।
শাহনাজ বলেন, পৈতৃক সম্পত্তিতে তিনি নামজারি করে বসবাস করছেন। পরিবারের উন্নতির জন্য দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকারের পাশাপাশি তাঁদের পরিত্যক্ত বাড়িতে বাবার সহায়তায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রায় ২০ বছর প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার অসুস্থতার সময় পরিবারের সম্পত্তির একটি অংশ তাঁর দুই ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মা জীবিত অবস্থায় তাঁর সম্পত্তি সন্তানদের মধ্যে বণ্টননামা দলিলের মাধ্যমে দিয়ে যান।
শাহনাজ আরও জানান, মা-বাবার অনুরোধে তিনি পৈতৃক জমিতে আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এ জন্য নকশা অনুমোদন, হাউস বিল্ডিং ঋণ গ্রহণ এবং তিন ভাই-বোনের নামে যৌথভাবে ভবন নির্মাণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। পাঁচতলা ভবনটিতে বণ্টননামা দলিল অনুযায়ী প্রত্যেকের নিজ নিজ ফ্ল্যাট ও অংশ ভোগদখলের কথা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে বর্তমানে ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোর, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মোটর ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁকে তাঁর প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ শাহনাজের।
তিনি বলেন, বাড়ির গেটের দুই পাশে থাকা খালি জায়গায় তাঁর চিকিৎসক মেয়েকে দিয়ে স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি ছোট চেম্বার স্থাপনের উদ্যোগ নেন। কিন্তু এ উদ্যোগে তাঁর দুই ভাই বাধা দেন এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি ও লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাহনাজ বলেন, “আমি একজন সাবেক প্রধান শিক্ষক। আমার স্বামীও সরকারি কলেজের শিক্ষক। আমার মেয়ে চিকিৎসক। এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করতে চাই। এটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়। কিন্তু আমার ভাইয়েরা এ কাজে বাধা দিচ্ছেন। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা চাই, যাতে নিরাপদ পরিবেশে মানুষের সেবা করতে পারি।”
এলাকাবাসীর কয়েকজনের অভিযোগ, পারিবারিক সম্পত্তি ও ব্যবহার-অধিকার নিয়ে বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। তাঁরা আরও দাবি করেন, বিরোধের জেরে গ্যাস, পানি ও অন্যান্য সুবিধা ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শাহনাজের অভিযোগ, তাঁর নিরাপত্তার জন্য ভবনের নিচতলায় সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তাতেও বাধা দেওয়া হয়েছে। তিনি ও তাঁর পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে মামুনুল কবির মামুনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগের বিষয়ে মো. শামীম রহমান মিঠুনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
শাহনাজ আক্তার বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণে তাঁর মানবিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম যেন বন্ধ না হয়, সে জন্য তিনি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধের আইনগত নিষ্পত্তির পাশাপাশি উভয় পক্ষের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি।



















