নারায়ণগঞ্জে শাহ সিমেন্টের কাভার্ড ভ্যানের চাপায় মাদ্রাসা ছাত্র নিহত: ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ রিপোর্টারঃ
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বেপরোয়া গতির একটি কাভার্ড ভ্যানচাপায় হাবিব হাসান (১৫) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে মীমাংসা বা ধামাচাপা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে শাহ সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে, যা স্থানীয় জনমনে తీవ్ర ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নিহত হাবিব স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল এবং তার বাবার আখের রসের দোকানে বসে থাকার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বক্তাবলী ফেরীঘাট এলাকায় শাহ সিমেন্ট কোম্পানির দ্রুতগামী একটি কাভার্ড ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ-১১-১৫০৮) নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি ট্রাকে এবং পরে হাবিবের বাবার দোকানের ওপর উঠে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারায় কিশোর হাবিব।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ভ্যানের চালক মনির ও হেলপার শাহাদাৎ হোসেনকে আটক করে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয় এবং কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করে। বুধবার আদালতে তোলা হলে বিচারক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তবে মূল বিতর্কের শুরু এখানেই। অভিযোগ রয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটার পর থেকেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বদলে ঘটনাটি ‘মিনিমাইজ’ বা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য শাহ সিমেন্টের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় দালালরা তৎপর হয়ে ওঠে। স্থানীয় সূত্রমতে, নিহতের পরিবারকে প্রথমে ২০ হাজার, পরে ৩০ হাজার, ৫০ হাজার এবং সর্বশেষ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়ে বিষয়টি রফা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, একটি তরতাজা প্রাণের ক্ষতিপূরণ কি এভাবে দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে?
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই দুর্ঘটনাটি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এর পেছনে থাকা ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। সচেতন মহল ও স্থানীয় এলাকাবাসী দাবি জানিয়েছে, কোনো প্রভাবশালী মহলের চাপে বা অর্থের প্রলোভনে যেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে প্রবাহিত না হয় এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। এলাকায় শোকের পাশাপাশি তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।


















