নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : বৃষ্টি মৌসুমের শুরুতেই আবারো জলাবদ্ধতার চেনা চিএ রূপ ফিরে এসেছে। দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকাসহ আশেপাশের অলিগলিতে হাঁটু পানি থেকে কোথাও কোমর পানি পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। অনেক স্থানে পানি ঢুকে পড়েছে বাসা বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী। গত সোমবার থেকেই বৃষ্টির প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবে আজ ভোর বেলা থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। টানা কয়েক ঘন্টার বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের তুলনায় ভোর রাত থেকেই উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। যা বৃষ্টি মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ড্রেনেজ ব্যবস্থার দূর্বলতা স্পষ্ট করে দেয়।
সরজমিনের দেখা গেছে, দক্ষিণ সস্তাপুর, গাবতলা মোড়, কোতয়ালের বাগ, লামারবাগ, লালপুর সহ কয়েকটি এলাকায় পানি জমে গেছে। কোথাও হাঁটু পানি কোথাও কোমর পানি জমে থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

দক্ষিণ সস্তাপুরের বাসিন্দা সোহাগ মিয়া জানান, ভোরবেলা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বাসা থেকে বের হয়ে দেখি হাঁটু পানি জমে গেছে। পানি জমে থাকার কারণে সব সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়াও দক্ষিণ সস্তাপুর কাজল সুপার মার্কেটের সামনে বারো মাস পানি জমে থাকে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ যেন দেখার কেহ নাই। এমপি যায় এমপি আসে কিন্তু জনগণের দুর্ভোগ লাগবে কেউ এগিয়ে আসে না। গাবতলা মোড়ে স্থায়ী বাসিন্দা সুলতান বলেন, খাল নিষ্কাশন ও ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় গাপতলার মোড় থেকে কোতলেরবাগ কাষ্টমের মোড় পর্যন্ত সড়কটি দিয়ে বারো মাসেই পানি জমে থাকে। এখানে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা ডুবে যায়। অনেকের বাসা বাড়ি নিচ তলায় খালের পানি ঢুকে পড়েছে। এদিকে দক্ষিণ সস্তায়পুর তিন রাস্তার মোড় পানি জমে থাকায় বিপাকে পড়তে হয় পথচারী ও যানবাহনের। পানি জমে থাকার কারণে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার ও ভারী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফলে অনেকেই পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। লামারবাগ ও লালপুরের একই চিত্র দেখা যায়। কয়েকটি স্থানে ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসে।
এদিকে ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সেনাবাহিনীর হাতে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেনাবাহিনী নামমাত্র কাজের দায় সারা দিয়ে চলে যায়। তৎকালীন জলাবদ্ধতা নিরসনে দু-দফায় আনুমানিক ১৩০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছিল। তবে বাস্তবে তার সুফল পায়নি বলে অভিযোগ ডিএনডি বাসির।



















