নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জ- বাংলাদেশের সংবিধানে দ্বিতীয় ভাগের ১৫(ক ) অনুচ্ছেদে রাষ্টের মৈলিক পরিচালনা নীতি অনুযায়ী স্বাস্থসেবাকে উল্লেখ করা হয়েছে এবং একজন নাগরিকের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ ব্যবস্থা গ্রহণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের । এ লক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা উপজেলা ও থানা পর্যায় গড়ে উঠেছে সরকারি ভাবে নানা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র । এর পাশাপাশি স্বাস্থসেবাকে পুঁজি করে অনেকে গড়ে তুলেছেন স্বাস্থসেবার নামে স্বাস্থসেবা বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান । আজ অনেক অসাধু ও অর্থলোভী ডাক্তারের কারনে স্বাস্থ্য সেবার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশের অগণিত জনসাধারণ। দিনে দিনে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেতে চিকিৎসকদের কাছে হয়ে পড়ছে জিম্মি। সরকারি সেবার মান উন্নত না হওয়ায় এবং ডাক্তারদের আচরণ সৌহার্দ্য পূর্ণ না হওয়ায় অনেক মানুষ সরকারি হাসপাতালে সেবা থেকে অনিহা। তাই সাধারণ মানুষ অসহায় ও নিরুপায় হয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা পেতে দ্বারস্থ হচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অথবা ডাক্তারের নিজস্ব চেম্বারে। এর ফলে সেবা পেতে আসা রুগীদের পুঁজি করে হাতিয়ে নিচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা। এই টাকা দিয়ে রাতারাতি নামে বেনামে গড়ে তুলছে বাড়ি,গাড়ি ও ব্যাংক ব্যালেঞ্চ।
নারায়ণগঞ্জ জেলায় অবস্থিত বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডাক্তারদের চেম্বারে বসে রোগী দেখছে শহরের বাহিরে থাকা বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ডাক্তাররা। তারা অন্যস্থানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত বা বসবাস করলেও দিন রাত চলে আসেন নারায়ণগঞ্জে । রোগীদের সেবা দেবার নামে অর্থলোভী কতিপয় চিকিৎসকরা মধ্য রাত পর্যন্ত থেকে যাচ্ছেন রোগী দেখতে চেম্বারে। তারা রোগীদের থেকে প্রেসক্রিপসন ফি বাবদ হাতিয়ে নিচ্ছেন ৫০০ হতে সর্বোচ্চ ১৫০০ টাকা। সেই সাথে রোগীর রোগ নির্ণয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর রিপোর্ট দেখে হাতিয়ে নিচ্ছেন ৫০০ হতে ৮০০ টাকা। এ ছাড়াও বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানি, ক্লিনিক থেকেও পাচ্ছেন মোটা অংকের কমিশন। স্বাস্থ্য সেবা একটি মানবিক পেশা বা সেবাকে ডাক্তাররা বর্তমানে তাদের বানিজ্য রুপে রুপান্তর করে নিয়েছেন বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন।
ডা: মোহাম্মদ আতিকুল বারী’কে নিয়ে সম্প্রতী গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর শহরজুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকের মতে ডাক্তার মো: আতিকুল বারীও স্বাস্থ্য সেবাকে পুঁজি করে বাণিজ্যিক আকারে রুপ ধারন করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা।
ডা: মোহাম্মদ আতিকুল বারী, সম্পর্কে খবর নিয়ে জানা যায়, তিনি এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য), পিজিটি (মেডিসিন), সিসিডি (বারডেম)হতে চিকিৎসা বিদ্যা অধ্যায়ন শেষ করে জনস্বাস্থ্য সেবাকে পেশা হিসেবে নিয়ে কর্ম জীবন শুরু করেন। অনেকের জানা মতে তিনি মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও বাত-ব্যথা রোগীদের সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য পরামর্শ প্রদান করে থাকেন।
বর্তমানে নারায়নগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত ডা: মোহাম্মদ আতিকুল বারী। তিনি নিয়মিত হাসপাতালের বহি: বিভাগে সকল থেকে দুপুর পর্যন্ত নাক,কান,গলা বিভাগে বসে রোগী দেখে থাকেন। তথ্য মতে জানা যায়, তিনি সরকারি হাসপাতালে রোগি দেখার পর নারায়ণগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি ক্লিনিক ও প্রাইভেট হাসপাতাল চেম্বারে বসে উচ্চ হারে ফি নিয়ে রোগী দেখে থাকেন এবং রোগ নির্ণয়ে রোগীদের পরীক্ষার জন্য তার সাথে অলিখিত চুক্তি ভিক্তিক মনোনীত ক্লিনিক প্যাথলজিতে পাঠিয়ে সেখান থেকে প্রতিমাসে মোটা অংকের টাকা টেস্টের বিনিময় কমিশন নিয়ে থাকেন। শুধু তাই নয় এছাড়াও বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে রোগীর প্রেসক্রিপসনে সেই সকল ঔষধ কোম্পানির ওষুধের নাম লিখে থাকেন বলে অনেকের অভিযোগ।
তিনি নাক,গান,গলা বিষয়ে অভিজ্ঞ না হয়েও কি ভাবে কোন নিয়মে দীর্ঘ বছর যাবৎ খানপুর হাসপাতালে রোগি দেখে চলছেন। তার এই বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।



















