নিজস্ব প্রতিবেদক, বন্দর: সরকারি কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব সদানন্দ রায়ের শেষ কর্মদিবসে নিজের মর্জিমাফিক এক জমকালো বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ৩০ জুন (মঙ্গলবার) দুপুর ১২:০০ ঘটিকায় উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার তাঁর চাকুরিকালীন শেষ কর্মদিবস। তবে কোনো সরকারি বিধিমালায় এ ধরনের ঘটা করে বিদায় অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা বা নিয়ম না থাকলেও, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী সহকর্মীদের বাধ্য করে এই আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কর্মঘণ্টার মাঝখানে এমন অনুষ্ঠানের কারণে কার্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে।
উক্ত অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দকে উপস্থিত থাকতে বাধ্য করা হয়। সরকারি দায়িত্ব ফেলে রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদায়ী কর্মকর্তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দামি সম্মাননা স্মারক প্রদানে ব্যস্ত সময় পার করেন।
ভোক্তভোগীদের অভিযোগ:অফিস চলাকালীন সময়ে মূল ফটক ও ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে মেতে থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ সেবা পেতে চরম ভোগান্তির শিকার হবেন।
যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি—সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে উপজেলার সকল সেবা কেন্দ্রসমূহ খোলা রাখার লোকদেখানো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত থাকলে মাঠপর্যায়ের তদারকি ও জরুরি সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। সরকারি কার্যালয়কে ব্যক্তিগত ইচ্ছাপূরণের মঞ্চ বানানোর এই প্রবণতা নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে বন্দর উপজেলার সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সদানন্দ রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো পাহাড়সম।
চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা: ৩ জন প্রার্থীর কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ।
গ্রেড ও ক্লিনিক বাণিজ্য: সিলেকশন গ্রেডের জন্য কর্মীদের কাছ থেকে ৪০–৫০ হাজার এবং একটি ক্লিনিক নবায়নের নামে ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ।
হয়রানি ও বদলির হুমকি: পরিদর্শনের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা ও দামি পোশাক আদায় এবং চাহিদা মতো টাকা না পেলে দূরবর্তী জেলায় বদলির হুমকি।
বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়: উন্নয়ন মেলার ভুয়া খরচ দেখিয়ে ১৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে ৪০০–৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায়।
বিকাশে ঘুষ গ্রহণ: অপরাধের প্রমাণ লুকাতে নগদ টাকার পাশাপাশি নিয়মিত বিভিন্ন বিকাশ নম্বরের মাধ্যমে ঘুষের টাকা লেনদেন।



















