নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। এ বিষয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সভায় পূজা উদযাপন নেতৃবৃন্দ জানান, এ বছর নারায়ণগঞ্জ জেলায় মোট ২৩৯টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা আরও কার্যকর করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি আয়োজকদেরও কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। বিশেষ করে মণ্ডপগুলোতে জেনারেটর, সিসিটিভি ক্যামেরা এবং পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবার দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আরও বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গত বছর প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকলেও এবার সাদা পোশাক ও ইউনিফর্ম মিলিয়ে প্রায় ৭৫০ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন।
পূজার সময় জনসমাগমকে কেন্দ্র করে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে পুলিশ। এ জন্য বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ টহল টিম সক্রিয় থাকবে।
শুধু পূজার দিনগুলোতেই নয়, প্রতিমা তৈরির সময় থেকেই নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে জেলা পুলিশ। প্রতিমা তৈরির স্থান থেকে পূজামণ্ডপে নেওয়ার সময়ও মোবাইল টিমের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সভায় জানানো হয়, আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের শঙ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে উৎসবকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগাম প্রস্তুতি ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।



















