নারায়ণগঞ্জে নিকাব পরে ‘র্যাম্প শো’: ধর্মীয় পোশাকের অপব্যবহার নিয়ে তীব্র বিতর্ক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
ইসলামী পোশাক ও নিকাব পরে প্রকাশ্যে ‘র্যাম্প শো’ আয়োজনের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ‘নারায়ণগঞ্জ নিকাব গ্রুপ’ নামক একটি ফেসবুক গ্রুপের ব্যানারে এই অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই সচেতন মহল ও ধর্মীয় অঙ্গনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভিডিওটিতে দেখা যায়—পর্দা বা নিকাব পরিহিত একদল নারী একটি অনুষ্ঠানে র্যাম্প মডেলের মতো হেঁটে শো-তে অংশগ্রহণ করছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত দর্শকদের ছবি তুলতে দেখা যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নেটিজেনদের একাংশ এটিকে পর্দার পবিত্রতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অবমাননা বলে মন্তব্য করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসলামের পবিত্র বিধান ‘পর্দা’ বা ‘নিকাব’ সাধারণত আত্মগোপন বা আত্মমর্যাদা রক্ষার প্রতীক। কিন্তু সেটিকে প্রদর্শনীর বস্তু হিসেবে ব্যবহার করা ইসলামের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। এটি কেবল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতই করছে না, বরং যারা প্রকৃত ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে পর্দা পালন করেন, তাদের সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্মানের জন্যও এটি ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “পর্দা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। এভাবে র্যাম্প শো-এর নামে নিকাবকে ব্যবহার করা মানে ধর্মের মূল দর্শনকে উপহাস করা। সাধারণ মানুষ এর ফলে পর্দা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করতে পারে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, পর্দার নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করলে তা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং যারা নিয়মিত পর্দা করেন, তারা পথে-ঘাটে হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের শিকার হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদকারীরা দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন, ধর্মীয় পোশাকের অপব্যবহার রোধে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অন্যথায়, এর নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন সমাজ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বা আয়োজকদের কোনো বক্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।



















