নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অনলাইনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অস্ত্রধারী ব্যক্তিদের টার্গেট করে সংঘটিত একাধিক ডাকাতির ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত দুটি শটগান, ৩৮ রাউন্ড কার্তুজ, একটি এয়ারগান, একটি ওয়াকিটকি, একটি মাইক্রোবাস, চারটি মোবাইল ফোন এবং জাল অস্ত্র লাইসেন্স তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, চীনা প্রতিষ্ঠানে গানম্যান হিসেবে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে বিভিন্ন জেলার চার ব্যক্তি আবেদন করেন। পরবর্তীতে চাকরিতে যোগদানের কথা বলে তাদের ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় রূপগঞ্জের নির্জন এলাকায়। সেখানে চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা লাইসেন্সকৃত অস্ত্র, কার্তুজ, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় ডাকাত চক্রটি।
এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় তিনটি ডাকাতি মামলা এবং ঢাকা মহানগরীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি দস্যুতা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে নেমে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করে। পরে মঙ্গলবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ভাটারা, বাড্ডা ও বনানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো— নাসিম উদ্দিন মোল্লা, রমজান আলী, সিরাজুল ইসলাম এবং ইব্রাহিম শেখ। তাদের সবার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত দুটি ১২ বোর শটগান ও ৩৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস, একটি এয়ারগান, একটি ওয়াকিটকি, চারটি মোবাইল ফোন এবং অস্ত্রের জাল লাইসেন্স তৈরির সিলমোহর ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট করতো। বিশেষ করে যাদের কাছে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তাদের বিভিন্ন কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে অস্ত্র ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হতো।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার এবং বাকি লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানার পুলিশ বলছে, সংঘবদ্ধ অপরাধ, ডাকাতি ও অস্ত্র লুণ্ঠনের মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চলমান থাকবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।



















