র্যাব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জঙ্গি দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গোয়েন্দা নজরদারি ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে জনগণের আস্থা অর্জনে র্যাব সফল হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মো. ইমন (৩৯) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি. সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শহরের মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন ওই এলাকার ওমর খৈয়ামের ছেলে।

তথ্য অনুযায়ী, ইমন দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পর ফেরদৌস নামে এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাকে শহরের গুদারাঘাট ওয়াজউদ্দিন মিস্ত্রিবাগ এলাকায় বাবুল মিয়ার বাসায় ডেকে নেন। সেখানে তাকে সন্ত্রাসী জাহিদ, হৃদয়সহ অন্যান্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করা হয়। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে পাশের একটি বাসায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও তাকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা। পরে উদ্ধার করে খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এরই প্রেক্ষিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১১, সিপিসি-১, নারায়ণগঞ্জের একটি আভিযানিক দল ০৩ মার্চ ২০২৬ খ্রি. তারিখ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ফতুল্লা থানাধীন মাসদাইর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো—
১. মো. রায়হান ওরফে দীপজল (২৮), পিতা: মো. শাহজাদ @ শাহাদাত, মাতা: রেহেনা বেগম, সাং: পশ্চিম মাসদাইর, থানা: ফতুল্লা, জেলা: নারায়ণগঞ্জ।
২. মো. সেতু (১৯), পিতা: মো. বকুল, সাং: দেওভোগ পশ্চিম নগর, থানা: ফতুল্লা, জেলা: নারায়ণগঞ্জ।
গ্রেফতারের সময় রায়হান ওরফে দীপজলের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পূর্বেও হত্যা চেষ্টা ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



















