মঙ্গলবার , 26 মার্চ 2024 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. খেলাধুলা
  4. জাতীয়
  5. দেশজুড়ে
  6. ধর্ম
  7. ফিচার
  8. বাণিজ্য
  9. বাংলাদেশ
  10. বিনোদন
  11. বিশ্ব
  12. ভিডিও
  13. মুন্সীগঞ্জ
  14. রাজনীতি
  15. শিক্ষা

লাখো মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

প্রতিবেদক
admin
মার্চ 26, 2024 8:30 পূর্বাহ্ন

আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। এ উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে জাতীয় স্মৃতিসৌধে। বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নানা সংগঠনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

সকাল সাড়ে ৬টার পর সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ এলাকা উন্মুক্ত করে দেয়ার পরেই এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন নানান শ্রেণি-পেশা ও বয়সের লাখো মানুষ।

মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) দিবসের প্রথম প্রহর সকাল ৫টা ৫৬ মিনিটে প্রথমে  রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এ সময় এক মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে নীরবতা পালন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। পাশে বেজে ওঠে বিউগলের করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অফ অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।

এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান ও ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  স্বাধীনতা দিবসে তালাবদ্ধ রাঙ্গামাটির শহীদ মিনার, সিপিবির ক্ষোভ

পরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এ সময় তার পাশে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আরও অনেকে।

এদিকে ভিআইপি যাতায়াতের কারণে ভোর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

সকাল সোয়া ৬টায় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর মহাসড়ক ছেড়ে দেওয়া হয় এবং সকলের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব বয়সী ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে প্রবেশ করেন স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে।

রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, সমাজকর্মী, সরকারি-বেসরকারি চাকুরে, শিল্পী-বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, পেশাজীবী, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, সর্বোপরি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধার পুষ্পাঞ্জলিতে ঢেকে যায় সৌধের শহিদ বেদি।

দিনটি উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর নানা সাজে সাজানো হয়েছে। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য প্রতিটি ইট ঘষে-মেজে ব্যবহার করা হয়েছে খয়েরি ও সাদা রং। আর আলোকসজ্জা করা হয়েছে সৌধ চত্বর এলাকায়। পানি পাল্টিয়ে নতুন করে পানি দিয়ে ভরে ফেলা হয়েছে কৃত্রিম হৃদটি। এলাকার আকর্ষণ বাড়াতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে পানির ফোয়ারাটিও। ভোর থেকে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ জুড়ে দেশাত্ববোধক গানের সুর বাজতে থাকে।

শহিদদের স্মরণ করতে ফুল হাতে হুইল চেয়ারে করে স্মৃতিসৌধে এসেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনটিতে দেশ মাকে বাঁচানোর জন্য পরিবার ছেড়ে যুদ্ধে নামি। আমাদের মধ্যে অনেকেই যুদ্ধে শহিদ হন। আমারও কাঁধে গুলি লাগে তবে এসব কোন কিছুই আমাদের দমাতে পারেনি। কারন আমাদের মনোবল ছিলো অনেক দৃঢ় তাই আমি এখনকার প্রজন্মকে বলবো তারাও যেন ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এসে যুদ্ধের গল্প শুনে যায় এতে তাদেরও দেশের প্রতি ভালোবাসা ও মমত্ববোধ বাড়বে এবং কোন অর্জনে মনোবল অটুট থাকবে।

সিদ্দিকুর রহমান নামে এক স্কুল শিক্ষক এসেছেন তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতি আইমানকে নিয়ে তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, নাতিকে নিয়ে এই প্রথমবার স্মৃতিসৌধে এসেছি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। প্রথমবার স্মৃতিসৌধে এসে আমার নাতির মনে অনেক প্রশ্ন। সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি এবং তাকে ঘুরে ঘুরে পুরো স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ দেখাচ্ছি।

মো. ইমু হোসেন নামে এক কলেজ শিক্ষক ঢাকা মেইলকে বলেন, আমাদের কলেজের শিক্ষার্থীরা এবার ব্যতিক্রমভাবে শ্রদ্ধা জানালো শহিদদের। নিজের আবেগ ও শ্রদ্ধা তারা লিখে জানিয়েছেন। এতে করে স্বাধীনতার ইতিহাস তারা বুকে লালন করছেন। আমাদের ২৪০ জন শিক্ষার্থী আজ এখানে এসেছেন।

তারা পতাকা হাতে একসাথে ২৪০টি খোলা চিঠি আকাশে উড়িয়ে দেন প্রতিটি চিঠিতে শ্রদ্ধা আর আবেগের স্থান পেয়েছে যা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাবে।

সাভার থেকে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আকরাম হেসেন। তিনি ঢাকা মেইলকে বলেন, এবার রোজার কারণে স্মৃতিসৌধে লোকজন তুলনামূলক অনেক কম এসেছে। আমি পরিবার নিয়ে ঢাকা থেকে ভোর বেলায় এসেছি। আমার অফিসের অনেক কলিগ সেহরির পর পরেই ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছে। সকালে স্মৃতিসৌধে সবাইকে নিয়ে ফুল দিতে পেরে অনেক ভালো লাগছে।

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইভা ঢাকা মেইলকে বলেন, আজ বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসব এটা অনেক আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। আমরা কয়েকজন একসঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসেছি। স্বাধীনতা দিবসে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরে ভালো লাগছে।

savar

জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের ইনচার্জ উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদের শ্রদ্ধা নিবেদনে স্মৃতিসৌধ প্রস্তুত মাসজুড়ে প্রস্তুত করেছি। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তাদের শ্রদ্ধা নিবেদনে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সর্বস্তরের মানুষের জন্য উম্মুক্ত করা হয়েছে। লাখো জনতার শ্রদ্ধার ফুলে ভরে যাচ্ছে শহীদ বেদী।

সর্বশেষ - দেশজুড়ে