Monday , 5 January 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আড়াইহাজার
  3. ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল
  4. খেলা
  5. চাদাবাজী
  6. চাষারা
  7. ধর্ম
  8. নারায়ণগঞ্জ
  9. ফতুল্লা
  10. বন্দর
  11. বাংলাদেশ
  12. বিনোদন
  13. বিশ্ব
  14. ব্রাহ্মণবাড়ীয়া
  15. মাদককারবারী গ্রেফতার

হাদির হত্যা: “আংশিক বিচার” নামক পরিচিত বৃত্তেই ঘুরছে নাতো?

প্রতিবেদক
AlorDhara24
January 5, 2026 12:29 pm

মীর আব্দুল আলীম:
হাদি হত্যাকাণ্ড কেবল একজন সাহসী তরুণের জীবনহানির ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার একটি বড় পরীক্ষা। এই হত্যাকাণ্ডের পর জনমনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে প্রবলভাবে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো প্রকৃত খুনিরা কি সত্যিই চিহ্নিত হচ্ছে, নাকি আমরা আবারও “আংশিক বিচার” নামক পরিচিত বৃত্তেই ঘুরছি? বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন বহু হত্যাকাণ্ড রয়েছে, যেখানে কিছু আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে, মামলা হয়েছে, কিন্তু মূল পরিকল্পনাকারী বা নির্দেশদাতারা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। হাদির হত্যার ক্ষেত্রেও সেই শঙ্কা কি ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে? আংশিক বিচার মানেই সম্পূর্ণ ব্যর্থতা যদি কিছু লোক শাস্তি পায়, আর মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে তাহলে সেটি বিচার নয়, বরং বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতা। ইতিহাস এমন বিচারকে ক্ষমা করে না। তদন্তের অগ্রগতি দৃশ্যমান, কিন্তু অসম্পূর্ণ মনে হচ্ছে। সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে। চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে, কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কাগজে-কলমে এসব অগ্রগতি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা কি মূল খুনি, না কি কেবল ‘ফ্রন্টলাইন এক্সিকিউটর’? বাংলাদেশের বাস্তবতায় হত্যাকাণ্ড প্রায়ই বহুস্তরবিশিষ্ট হয়; কারা পরিকল্পনা করেছে, কারা অর্থ জুগিয়েছে, কারা নির্দেশ দিয়েছে, আর কারা সরাসরি অস্ত্র ধরেছে এই চার স্তরের বিচার একসঙ্গে না হলে ন্যায়বিচার অসম্পূর্ণই থেকে যায়। মূল সন্দেহভাজনরা যদি বাইরে থাকলে বিচার কতটা বিশ্বাসযোগ্য? হাদি হত্যার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যাদেরকে তদন্তে “মূল সন্দেহভাজন” হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাদের কয়েকজন এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। কেউ আত্মগোপনে, কেউ দেশের বাইরে এমন তথ্যও সামনে এসেছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠছে, যদি মূল অভিযুক্তরা ধরা না পড়ে, তাহলে চার্জশিট কাদের বিরুদ্ধে? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পলাতক প্রধান আসামিকে বাদ দিয়ে বিচার শুরু হলে সেই বিচার শেষ পর্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে। সাক্ষ্য, প্রমাণ ও দায়ভার সবই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চ আদালতে সেই রায় টেকার সম্ভাবনাও কমে যায়। স্পিডি ট্রায়াল; কি সময়ক্ষেপণের নতুন কৌশল? দ্রুততা না দায় এড়ানোর রাস্তা? সরকার বলছে স্পিডি ট্রায়াল হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, স্পিডি ট্রায়াল অনেক সময় দ্রুত ফাইল বন্ধ করার কৌশল হয়ে দাঁড়ায়। বিচার দ্রুত হতে পারে, কিন্তু সত্য কি দ্রুত বের হয়? গভীর তদন্ত ছাড়া দ্রুত বিচার মানেই অগভীর ন্যায়বিচার। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, হাদি হত্যা মামলা স্পিডি ট্রায়াল ট্রাইব্যুনালে নেওয়া হবে। দ্রুত বিচার অবশ্যই একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, দ্রুত বিচার আর ন্যায্য বিচার এক জিনিস নয়, যদি তদন্ত অসম্পূর্ণ থাকে। স্পিডি ট্রায়ালের নামে যদি তদন্তের ফাঁকফোকর ঢেকে রাখা হয়, যদি রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলকে রক্ষা করা হয়, তাহলে সেই বিচার জনগণের আস্থা ফেরাতে পারবে না বরং অবিশ্বাস আরও গভীর করবে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হাদি হত্যার পর থেকেই রাজনীতি ঘুরে ফিরে এসেছে আলোচনায়। কে লাভবান হলো, কে ক্ষতিগ্রস্ত হলো, কার স্বার্থে নীরবতা এই প্রশ্নগুলো এড়ানো যাচ্ছে না। বিচার যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হয়, তাহলে তা ইতিহাসে আরেকটি “নির্বাচিত বিচার” হিসেবে চিহ্নিত হবে। রাষ্ট্র যদি সত্যিই প্রমাণ করতে চায় যে এই হত্যাকাণ্ডে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তাহলে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় ছত্রচ্ছায়া বা অতীত অবদান কোনো কিছুই বিবেচনায় আনা যাবে না। এমনটা হচ্ছে নাতো? জনআন্দোলন আর নাগরিক চাপই কি শেষ ভরসা? ইতিহাস বলে, বাংলাদেশে বড় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত বিচার এসেছে তখনই, যখন নাগরিক সমাজ চাপ ধরে রেখেছে। হাদি হত্যার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষার্থী, নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আন্দোলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই চাপ না থাকলে তদন্ত অনেক আগেই শ্লথ হয়ে পড়তে পারত। তাই আন্দোলনকে “অস্বস্তিকর” নয়, বরং গণতান্ত্রিক নজরদারি হিসেবে দেখা উচিত। হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে কী বার্তা যাবে? যদি হাদি হত্যার প্রকৃত খুনিরা শনাক্ত ও শাস্তি না পায়, তাহলে বার্তাটি হবে ভয়াবহ। শক্তি থাকলে হত্যা করেও পার পাওয়া যায় দুর্বল হলে ন্যায়বিচার কেবল শ্লোগান রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি কাগজে সুন্দর, বাস্তবে ভঙ্গুর এমন বার্তা একটি সমাজকে আরও সহিংস, আরও অনিশ্চিত করে তোলে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পরে। পুলিশ ও তদন্ত সংস্থার ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন কমছে। কারণ, বড় মামলায় তারা প্রায়ই ‘নিরাপদ সীমার’ ভেতরে তদন্ত শেষ করে। হাদির মামলায় যদি সেই পুরোনো ছকই অনুসরণ করা হয়, তবে জনগণের অনাস্থা আরও গভীর হবে। হাদির পরিবার আজ শুধু সন্তানহারা নয়, তারা বিচারহীনতার আতঙ্কেও ভুগছে। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো খুনের পর পরিবারগুলোকে বছরের পর বছর আদালতের বারান্দায় ঘুরতে হয়। রাষ্ট্র কি এবার সেই চক্র ভাঙতে পারবে? বিচার বিলম্ব মানেই অন্যায়কে উৎসাহ দেওযা। যেখানে বিচার বিলম্বিত হয়, সেখানে অপরাধ উৎসাহিত হয়। হাদি হত্যার বিচার যদি ঝুলে যায়, তাহলে সেটি ভবিষ্যতের অপরাধীদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা হবে খুন করলেও পার পাওয়া যায়। এই ধরনের হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলেও নজরে পড়ে। বিচার না হলে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হবে। সরকারকে বুঝতে হবে এই মামলা কেবল দেশের ভেতরের বিষয় নয়। হাদি হত্যার বিচার এখন একটি লিটমাস টেস্ট। এটি কেবল একটি মামলার নয়, পুরো বিচারব্যবস্থার আস্থা অনাস্থার বিষয়। চার্জশিট দাখিল, ট্রায়াল শুরু এসব আনুষ্ঠানিকতা নয়; মূল বিষয় হলো সব স্তরের অপরাধীর বিচার। রাষ্ট্র যদি সত্যিই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে তাকে প্রমাণ করতে হবে, হাদির খুনিরা কেবল “ধরা পড়া কয়েকজন” নয়, বরং যারা পরিকল্পনা করেছে, নির্দেশ দিয়েছে, আড়াল করেছে সবারই বিচার হবে। নইলে ইতিহাসে এই মামলাও যুক্ত হবে আরেকটি প্রশ্নবোধক অধ্যায় হিসেবে, বিচার হয়েছিল, নাকি শুধু বিচার হওয়ার অভিনয়? এ অবস্থায় গণমাধ্যমের ভূমিকা কি হওয়া উচিত? হাদি হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি রাষ্ট্র, সমাজ ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার সম্মিলিত পরীক্ষার নাম। এই পরীক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল। কারণ ইতিহাস বলে—যেসব হত্যাকাণ্ডে রাষ্ট্রীয় ভাষ্য একমাত্র সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, সেখানে ন্যায়বিচার প্রায়শই ধোঁয়াশায় ঢাকা পড়ে। গণমাধ্যমের দায়িত্ব কেবল রাষ্ট্র যা বলছে তা হুবহু প্রচার করা নয়; বরং সেই ভাষ্যের ভেতরের ফাঁক, অসংগতি ও নীরব প্রশ্নগুলোকে সামনে আনা। হাদির ন্যায় বিচারের প্রশ্নে গণমাধ্যমকে তাই ‘প্রচারক’ নয়, হতে হবে ‘প্রহরী’। প্রথমত, এই মামলায় গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হলো প্রশ্নকে জীবিত রাখা। সংবাদচক্রের স্বাভাবিক নিয়মে আজকের শিরোনাম কাল ভুলে যাওয়া হয় কিন্তু হাদি হত্যার প্রশ্ন ভুলে গেলে চলবে না। কে হত্যা করেছে, কেন করেছে, তদন্ত কতদূর এগোল, কোন স্বার্থগোষ্ঠী নীরব থাকছে এই প্রশ্নগুলো বারবার তুলতে হবে। একবার সংবাদ করে থেমে গেলে চলবে না; ধারাবাহিক ফলোআপ রিপোর্ট, টাইমলাইনভিত্তিক বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনই এখানে প্রকৃত সাংবাদিকতার মানদণ্ড। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রীয় বক্তব্যের বাইরে বিকল্প কণ্ঠগুলোকে জায়গা দিতে হবে। নিহতের পরিবার কী বলছে, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ কী, আইন বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ কী এসব কণ্ঠ যদি গণমাধ্যমে না আসে, তবে রাষ্ট্রের একক বয়ানই শেষ কথা হয়ে দাঁড়াবে। এতে ন্যায়বিচার প্রক্রিয়া সংকুচিত হয়। গণমাধ্যমের কাজ হলো এই একমুখী বয়ান ভেঙে বহুমাত্রিক সত্যকে সামনে আনা। তৃতীয়ত, ভয় ও আত্মনিয়ন্ত্রণ ভাঙা জরুরি। সংবেদনশীল মামলায় অনেক সময় গণমাধ্যম নিজেই ‘সতর্কতা’র নামে নীরব হয়ে পড়ে। কিন্তু এই নীরবতাই অপরাধীদের সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ। হাদি হত্যার ক্ষেত্রে গণমাধ্যম যদি ভয়ের কাছে হার মানে, তবে সেটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয় সমগ্র সমাজের নৈতিক পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে। হাদির ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকে হতে হবে স্মৃতির ধারক। রাষ্ট্র ভুলে যেতে চাইলে, ক্ষমতা ধামাচাপা দিতে চাইলে, সময়ের ধুলোয় সত্য ঢেকে গেলে গণমাধ্যমই সেই জায়গা, যেখানে প্রশ্নটি বারবার ফিরে আসবে: হাদি কে হত্যা করেছিল, এবং সেই হত্যার ন্যায়বিচার কবে হবে? শেষ কথা হলো রাষ্ট্র কোন পথে হাঁটবে? আজ রাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ একটি হলো সাহসী, পূর্ণাঙ্গ বিচার; অন্যটি হলো পরিচিত সময়ক্ষেপণ ও দায় এড়ানোর পথ। হাদি হত্যার বিচার কোন পথে যাবে, সেটিই বলে দেবে রাষ্ট্র কি সত্যের পক্ষে, নাকি ক্ষমতার পক্ষে?
লেখক- মীর আব্দুল আলীম, সাংবাদিক, সমাজ গবেষক, মহাসচিব-কলামিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ, ট্রাস্টি বোর্ডের উপদেষ্টা – সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।

সর্বশেষ - বাংলাদেশ

আপনার জন্য নির্বাচিত

কাঁঠালিয়ায় মেঝেতে পড়েছিল নারীর মরদেহ

নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটি’র মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

হাদী হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে রূপগঞ্জে থানা ও মহাসড়ক অবরোধ করেছে এনসিপি !

অবৈধ সম্পদ অর্জন: বেনজীর, তার স্ত্রী-কন্যাদের নামে মামলা

স্বৈরশাসক ও ফ্যাসিবাদের দোসর অস্ত্র ব্যবসায়ী দেলুকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব ১১

প্রাথমিকে পোষ্য কোটা বাদ, মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ শিক্ষক নিয়োগ

সচিবালয়ের সামনে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশের ফাঁকা গুলি

অবৈধভাবে বিদেশিদের বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

নাসিক ৬ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী সন্ত্রাসী জাহিদ নারায়ণগঞ্জ  মহানগর সাবেক যুবদল নেতাকে হত্যার হুমকি 

হাসিনার আমলে উচ্চ প্রবৃদ্ধির বিষয়টি ‘ভুয়া’, রয়টার্সকে ড. ইউনূস