সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ ৩ ও ৪ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ ৩ সংসদীয় আসন (সিদ্ধিরগঞ্জ-সোনারগাঁও) বাসীর ইজ্জত রক্ষার্থে নির্বাচনে অংশগ্রহন করছি। শনিবার (৩ জানুয়ারী) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তার দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা উন্নয়নের অগ্রগতির রাজনীতি রেখে গেছেন সেই দলটা করে আমি সমাজে অনেক সম্মানিত হয়েছি। অনেক পরিচিত লাভ করেছি কৃতজ্ঞতা কোত থেকে তাকে স্মরণ করছি আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন। আমরা যারা সিদ্ধিরগঞ্জবাসী আমাদের সকলেরই এলাকার প্রতি দরদ রয়েছে। এই এলাকার মানুষ আমাকে স্নেহ করে ভালোবেসে ছাত্র জীবনে দুই দুইবার ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। এরপর ফতুল্ল থানা ডেভেলপ কর্তিক নির্বাচিত চেয়ারম্যান হয়েছি। এরপর বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম সদর উপজেলার চেয়ারম্যান আপনারা বানিয়েছেন ।
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি নেতাকর্মীদের জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩ ও আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছি আজকে জেলা রির্টানিং আমার দুটি মনোনয়ন বৈধ ঘোষনা করেছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ ৩ আসনে আমাদের ৭ জনের যে কেউ নির্বাচন করলে আমি এখান থেকে করবো না । আমাদের সাবেক প্রতিমন্ত্রী রেজাউল করিম করলেও আমি এই আসনে নির্বাচন করবো না যদি তিনি না করেন তাহলে আমি করবো।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির অনেকেই শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বলে চলেছে। আমি করি নাই। আমার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে তখন জীবন বাজী রেখে আপনাদের নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম। যার কারণে আপনাদের সঙ্গে হৃদয়ের একটা সংযোগ ঘটেছে আমার। বিশেষ করে ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বক্তাবলী, আলীরটেক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। একজন সাধারণ মানুষও আমাকে ভালোবাসে। যে আমাকে ভোট দিবে না সেও বলে তাকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত ছিল। এসময় তিনি বলেন, আমার এক দরজা বন্ধ করে দিলে দশ দরজা খুলে যাবে। যারা জনগণের পাশে থেকে কাজ করেন তাদের আর কয়টা দরজা বন্ধ করবেন।
গিয়াসউদ্দিন বলেন, আপনারা নেতাকর্মীরা আমাকে ভালোবাসেন। যখন দেখলেন আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয় নি তখন ভাবলেন আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তখন আপনারা আমার পক্ষে মনোনয়ন কিনেন। পরে আমার এখানে এসে আমাকে স্বতন্ত্রতে নির্বাচন করার আহ্বান করেন। আমি সেদিন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কারণ আপনাদের অনুরোধকে আমি প্রত্যাখান করতে পারি না।

সিদ্ধিরগঞ্জ এবং সোনারগাঁ মিলে নির্বাচনী এলাকা ৩ বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে যিনি আজকে নির্বাচন করছেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন সোনারগাঁয়ের পর শীতলক্ষা নদী ওই পশ্চিম পাড়ে যারা থাকে তারা সন্ত্রাস। আমি গিয়াসউদ্দিন এই মাটিতে এই এলাকায় জন্ম এই এলাকার সন্তান। এই এলাকাকে তিনি সন্ত্রাসী বানিয়ে দিতে পারেন না। আমরা সিদ্ধিরগঞ্জবাসী অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেছি।অনেক আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাসও করেছি। এই শিল্প এলাকায় পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি । বাংলাদেশ হওয়ার পরে সকল স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি।
গিয়াসউদ্দিন আরো বলেন, আমরা সন্ত্রাসী সিদ্ধিরগঞ্জের মানুষকে অবজ্ঞা করে গালি দিয়েছেন। তাকে কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না। সিদ্ধিরগঞ্জে মানুষের মধ্যে যদি রক্তের সামান্য কণিকা থাকে আর সেই রক্তের উদ্দেশ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের প্রতি যদি কোন ভালোবাসা থাকে এই নির্বাচন হবে তার প্রমাণ করার সুযোগ। সোনারগাঁয়ের আমার সহকর্মীরা আমাকে নিয়ে প্রত্যেকটা অঞ্চলে গণসংযোগ করিয়াছে। সবার সেমিনার করিয়েছে। নতুন করে যখন আমার এই এলাকা সোনারগাঁও এর সাথে মিশে ৩আসনে গিয়েছে। সোনারগাঁও সেই নেতাকর্মীদের তিনি সমান্য মূল্যায়ন করেননি। যারা সোনারগান নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমার প্রিয় সহকর্মী তাদের একজন কেউ ফোন দেননি এবং কথা বলেননি। সোনারগাঁ এবং সিদ্ধিরগঞ্জের আমার বিরুদ্ধে খুঁজে খুঁজে নেতাকর্মী বের করছেন তাদের নিয়ে আপনি কাজ করছেন। আমাদের নেতাকর্মীরা কি এতই খেতে পড়ে গেছেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের এলাকা নারায়ণগঞ্জ -৪ তৎকালীন সিদ্ধিরগঞ্জ ও ফতুল্লা থানা নিয়ে গঠিত এ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। আমি এই মাটির সন্তান হিসেবে সিদ্ধিরগঞ্জ বাসির হয়ে সারা বাংলাদেশে বহন করে নিয়ে গেছি। যেখানে গিয়েছি আমি সেখানে আমার পরিচয় আমার বাড়ি। সিদ্ধিরগঞ্জ। আপনারা না গেলেও যেখানে গিয়েছি সেখানে আপনাদের সন্তান হিসেবে আপনাদের পরিচয় বহন করেছি।
আপনারা যেমন আমাকে ভালোবাসেন আমি এই মাটি ও মানুষকে ভালোবাসি। আপনারা আমার সাথে রাজনীতি করলেন আন্দোলন সংগ্রাম করলেন আমার কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি চেয়েছেন আপনাদের এই দাবি আমি রাখবো। আমি আপনাদেরকে অপেক্ষা করতে পারি নাই। এজন্য আমি সম্মতি দিয়েছি হ্যাঁ আপনারা যদি চান যেকোনোভাবে আমি নির্বাচন অংশগ্রহণ করব।
উক্ত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি’র সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হোসেন, সহ সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মুহাম্মাদ সাদরিলসহ সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।



















