বন্দর প্রতিনিধি: বন্দরে মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার জের ধরে মাদক ব্যবসায়ী ও যুবলীগ সন্ত্রাসী হারুনগংয়ের হামলায় ২ নারীসহ ৩ জন আহত হয়েছে। ওই সময় হামলাকারিরা দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়িঘর ভাংচুর করে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে ঘরে রক্ষিত নগদ ২ লাখ টাকা ও ১০ ভড়ি ওজনের স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়।
আহতরা হলো হাসান (৩৫) রাসেল (৪০) ও মর্জিনা বেগমকে (৪৫)।
স্থানীয়রা আহতদেরকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে বন্দর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে আহত যুবকের বড় ভাইয়ের স্ত্রী আঁখি বেগম বাদী হয়ে হামলাকারি মাদক ব্যবসায়ী হারুন, আলিফ, মাওয়াত,মিঠু,আল আমিন, হৃদয়, ইমরান, তোফায়েল ও মারুফসহ ২১ জনকে আসামী করে বন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় বন্দর উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ফ্যাসিষ্ট সরকারের দোসর হিসেবে পরিচিত যুবলীগের হারুন ও আলিফ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। ভুক্তভোগী আাঁখি বেগমের দেবর মোঃ হাসান (৩৫) তাদের মাদক বিক্রিতে বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এর ধারাবাহিকতায় গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার সময় নারায়ণগঞ্জ সদরের ৫নং মাছ ঘাট এলাকায় হাসানকে একা পেয়ে এলোপাাড়ি মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে বিবাদীরা। পরবর্তীতে বিকেল ৪টার দিকে হারুন ও আলিফের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র দল দেশীয় অস্ত্র (রামদা, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল) নিয়ে আদমপুরস্থ তাদের বসতবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে আঁখি বেগমের স্বামী মোঃ রাসেল (৪০) এবং তার ননাস মর্জিনা বেগমকে (৪৫) চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। বিবাদীরা ঘরের স্টিলের আলমারি ভেঙে নগদ ২,০০,০০০ (দুই লক্ষ) টাকা এবং ১০ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ১নং বিবাদী কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা এবং ২নং বিবাদী একই ওয়ার্ডের ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় তাদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসার সাহস পায়নি। এমনকি যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিও প্রদান করে।
এ ঘটনায় উল্লেখিত এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।