সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হামলাকারীরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও দামি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আটি হাউজিং ফকিরবাড়ী মসজিদের সামনে এ মারধরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোসাঃ সেলিনা বেগম বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— মো. দেলোয়ার হোসেন (৪৫), মো. মনির হোসেন (৫০), মো. বাপ্পি (২৬), মো. সিয়াম (২৪), মো. জাকির হোসেন (৩৫), মো. শাওন (২৫), মোসাঃ জোসনা বেগম (৪০), মোসাঃ মাহমুদা বেগম (৩৫), মোসাঃ পাখি আক্তার (৩৫), মোসাঃ রুবি আক্তার (৩৬) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৮/১০ জন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদী সেলিনা বেগমের মৃত বাবা জহিরুল হক আটি মৌজার সিএস ও এসএ ৪২২, ৪২৩, ৪২০ ও ৪৩০ নম্বর দাগের ১১৯ শতাংশ সম্পত্তি ১ নম্বর বিবাদী মো. দেলোয়ার হোসেন ও ২ নম্বর বিবাদী মো. মনির হোসেনের নিকট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। চুক্তির অংশ হিসেবে বিবাদীরা ১৫ লাখ টাকা প্রদান করলেও বাকি ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা এবং ৪ কাঠা প্লট বুঝিয়ে না দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা করে আসছিলেন।
উক্ত বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সেলিনা বেগমের স্বামী মো. রমজানকে (৪৫) একা পেয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে জখম করেন। স্বামীর ডাকচিৎকারে বাদী ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে আসলে বিবাদীরা লাঠিসোটা, লোহার রড, চাপাতি ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
হামলায় মো. রমজান, ছোট ভাই মো. মুরাদ হোসেন ও বাদী সেলিনা বেগম গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা তাদের মাথা, নাক ও হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং ২ নম্বর বিবাদী শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও ৮ নম্বর বিবাদী মোসাঃ জোসনা বেগম ১ ভরি স্বর্ণের চেইন, অন্য বিবাদীরা আরও একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি আইফোন এবং ভাতিজা রাজা মিয়ার পকেট থেকে নগদ ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান , অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং সত্যতা সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।