আন্দোলন-সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের রাজপথ কাঁপানো শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের লড়াকু সৈনিক মোজাম্মেল হোসেন একজন সহজ সরল মানুষ। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বিএনপির একজন নির্যাতিত ত্যাগী কর্মী। স্বৈরাচারী হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে রেখেছেন অনন্য ভুমিকা। রাজনীতিতে সক্রিয় ভুমিকা রাখলেও রয়েছেন অবহেলিত। একান্ত আলাপচারিতায় ফুটে উঠেছে তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের নানান চড়াই-উৎরাইয়ের নানান বিষয়।
মোজাম্মেল হোসেন জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সাথে প্রায় ৩০ বছর যাবত রাজনীতি করে আসছেন। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, রাজপথে একাধিকবার মিছিলসহ হাসিনা সরকার পতনের লক্ষ্যে নানামুখী আন্দোলনে রখেছেন সক্রিয় ভুমিকা। অধ্যাপক মামুন মাহমুুদের হাত ধরেই বিএনপির রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেন তিনি।
বিএনপির নিবেদিত ত্যাগী নেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি গত ১৫ বছরে ডজন খানেক মামলা খেয়েছেন। এসব মিথ্যা সাজানো মামলায় তিনি ৪ বার ৪ বছর জেল খেটেছেন। সর্বশেষ ৫ আগষ্টের আগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন সময়ে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে বন্দি ছিলাম। ৫ আগষ্ট হাসিনা সরকার পতনের পর জেল থেকে মুক্ত হই। সবচেয়ে দু:খের বিষয় ৫ আগষ্টের পরে জেল থেকে বের হয়ে নিজ দলের ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রে আমি বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সংঘঠিত হতাহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার আসামী হই।
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে সরাসরি রাজপথের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে ছাত্র আন্দোলনকে বেগবান করেছি। ঐসময় নিজের সাধ্যমতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করেছি। এ ছাড়াও আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থী ও বিএনপি কর্মীদেরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি।
এসময় মোজাম্মেল হোসেন আরেও বলেন, আমার বাড়ি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজুর বাড়ির পাশাপাশি এবং থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়ার এলাকার বাসিন্দা। গত ১৫ বছরে আমিনুল ইসলাম রাজু আমকে মামলা দিয়ে বহুবার হয়রানি করেছে। সে আমাকে ঘরে ঘুমাতে দেয়নি, ঠিক মতো ব্যবসা-বাণিজ্য করতে দেয়নি। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে প্রতিবেশী হয়েও সেচ্ছাসেবকলীগ নেতা রাজুর অত্যাচার থেকে রেহাই পাইনি।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের রাজনীতিতে আমি কখনো কারো সাথে আপোস করিনি। কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বর্তমান জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নেতৃত্বে সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজপথে ছিলাম।



















